শুক্রবার ৩০ অক্টোবর ২০২৬ - ১৬:১২
ইসলামী সমাজের প্রকৃত শক্তি আল্লাহর ইবাদত ও বন্দেগিতে, অহংকার ও আত্মম্ভরিতায় নয়: আয়াতুল্লাহ সাঈদি

হাওজা নিউজ এজেন্সি— ইসলামী সমাজের শক্তি ও মর্যাদা আল্লাহর ইবাদত ও বন্দেগি থেকে আসে, অহংকার ও আত্মম্ভরিতা থেকে নয়। তাই সমাজ যত শক্তিশালী হবে, মহান আল্লাহর সামনে তার বিনয় ও আনুগত্যও তত বেশি হওয়া উচিত। এ কথা বলেছেন ইরানের পবিত্র নগরী কোমের জুমার নামাজের খতিব আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোহাম্মদ সাঈদি।

শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবায় তিনি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে হযরত ফাতিমা যাহরা (সা. আ.)-এর সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি মানদণ্ড হওয়া উচিত। মহান আল্লাহ হযরত ফাতিমা যাহরা (সা. আ.)-এর সন্তুষ্টিকে নিজের সন্তুষ্টি এবং তাঁর অসন্তুষ্টিকে নিজের অসন্তুষ্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন, যাতে উম্মত সত্যের পথে অবিচল থাকতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সব প্রতিষ্ঠানকে ইমাম আলী (আ.)-এর বেলায়াতের প্রতি অনুগত থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে হযরত ফাতিমা যাহরা (সা. আ.)-এর সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টিকে নিজেদের কর্মের মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা।

মসজিদে নববীতে হযরত ফাতিমা যাহরা (সা. আ.)-এর ঐতিহাসিক ভাষণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আয়াতুল্লাহ সাঈদি বলেন, নিজের অবস্থান ও সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি সেই ষড়যন্ত্রগুলো উন্মোচন করেছিলেন, যেগুলোর মাধ্যমে মুনাফিকরা ইসলামী ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চেয়েছিল। একই সঙ্গে গাদিরে খুমের ঐতিহাসিক ঘটনাকে উপেক্ষা করার কারণে মদিনার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারীদেরও তিনি ভর্ৎসনা করেছিলেন।

তিনি বলেন, মুনাফিকদের বিষয়ে দুটি দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, তাদের বৈশিষ্ট্য, ষড়যন্ত্র ও ফিতনা সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা এবং দ্বিতীয়ত, তাদের প্রকৃত চেহারা উন্মোচন করা। কোনো আন্দোলন বা বিপ্লবে মুনাফিকদের মুখোশ উন্মোচন করা না হলে তারা অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করতে পারে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-ও বিভিন্ন আয়াত, হাদিস ও ঘটনার মাধ্যমে মুনাফিকদের পরিচয় তুলে ধরেছেন এবং তাদের ব্যাপারে মুসলমানদের দায়িত্ব স্পষ্ট করেছেন।

আয়াতুল্লাহ সাঈদি আরও বলেন, মুনাফিকদের চিহ্নিত করা এবং তাদের প্রকৃত পরিচয় জনসমক্ষে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন হযরত ফাতিমা যাহরা (সা. আ.)। তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামের ক্ষতিসাধনে তৎপর মুখোশধারীদের প্রকৃত চেহারা উন্মোচিত হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে তিনি মহানবী (সা.)-এর একটি হাদিস উদ্ধৃত করে বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই ফাতিমার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন।’ অর্থাৎ, হযরত ফাতিমা যাহরা (সা. আ.)-এর সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

তিনি বলেন, বর্তমানে কিছু রাজনৈতিক মহল জনগণের সন্তুষ্টি অর্জনকে গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু মহানবী (সা.) স্পষ্ট করে দিয়েছেন, প্রকৃত মানদণ্ড হলো হযরত ফাতিমা যাহরা (সা. আ.)-এর সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি।

জুমার নামাজের দ্বিতীয় খুতবায় আয়াতুল্লাহ সাঈদি যুব দিবস এবং কিশোর শহীদ হোসেইন ফাহমিদির শাহাদাতবার্ষিকীর প্রসঙ্গ তুলে ধরে তাঁকে তরুণ প্রজন্মের জন্য আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি নিষ্ক্রিয় প্রতিরক্ষা বা প্যাসিভ ডিফেন্সকে বিভিন্ন হুমকি মোকাবিলার একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এ ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতা এবং জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

ইরানের ১৩ আবান ১৩৫৮ (হিজরি শামসি) তারিখে মার্কিন গুপ্তচরকেন্দ্র দখলের বার্ষিকীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয় হলো পশ্চিম এশিয়া থেকে দেশটির অবৈধ হস্তক্ষেপের অবসান ঘটানো।

প্রথম খুতবায় সূরা বাকারার ১৯৭ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে আয়াতুল্লাহ সাঈদি বলেন, পরকালের যাত্রার জন্য সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া। অন্যদিকে, সূরা ফাতহের ২৯ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, একটি প্রকৃত ইসলামী সমাজ শত্রুদের মোকাবিলায় দৃঢ় ও শক্তিশালী হবে এবং নিজেদের মানুষের প্রতি হবে সহমর্মী ও দয়াশীল। তবে এই শক্তি ও সহমর্মিতার মূল ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর ইবাদত ও বন্দেগি।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী সমাজের শক্তি অহংকার ও আত্মম্ভরিতা থেকে আসে না; বরং মহান আল্লাহর সামনে বিনয়ী হওয়া এবং তাঁর ইবাদত ও বন্দেগির মধ্য দিয়েই প্রকৃত শক্তি অর্জিত হয়। সমাজ যত বেশি শক্তিশালী হবে, আল্লাহর সামনে তার তত বেশি বিনয়ী হওয়া উচিত। ইবাদত মানুষকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে না; বরং একটি উন্নত, ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী সমাজ গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha